
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নকে একটি জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসমাইল বিন মনির। ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশে সম্প্রতি দেওয়া এক বার্তায় তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে জনসম্পৃক্ততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে ইসমাইল বিন মনির বলেন, গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও সেচসুবিধা নিশ্চিত করতে চান তিনি। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে তাঁর নানা পরিকল্পনা। বেকার তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।
নিরাপদ ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইসমাইল বিন মনির মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা জানান। পাশাপাশি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় সরকারি সুবিধা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে। বয়স্ক ও বিধবা ভাতার সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও কাজ করতে চান ইসমাইল বিন মনির। নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও পরিচিতি রয়েছে ইসমাইল বিন মনিরের। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এর আগে তিনি আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রদলের সাহিত্য ও পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক এবং চুন্নাপাড়া ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ছয়টি মামলার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি একাধিকবার হামলা, জেল-জুলুম ও বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে সক্রিয় থাকার কথা জানা গেছে।
এলাকার সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ‘প্রিয় রায়পুর’-এর কার্যনির্বাহী সদস্য। এ ছাড়া হাজীরপাড়া ইসলামী শান্তি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনগণের অংশগ্রহণ, জবাবদিহি ও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে রায়পুর ইউনিয়নকে এগিয়ে নেওয়াই তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।