
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য লিওনেল মেসির প্রয়োজন ছিল মাত্র একটি গোল। তাই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। ম্যাচের শুরুতেই ৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রেকর্ড গড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কিন্তু অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগারের দুর্দান্ত সেভে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। এরপরও প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন তিনি।
তবে অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে থিয়াগো আলমাডার তৈরি করা আক্রমণ থেকে দারুণ এক শটে গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসেন মেসি। সেই গোলের মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ১৭তম বিশ্বকাপ গোল করেন।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২–০ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন মেসি। ফলে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে। চলতি আসরের দুই ম্যাচেই তিনি করেছেন পাঁচ গোল।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে লিওনেল স্কালোনির দল। একই সঙ্গে শেষ বত্রিশে খেলা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপপর্বে তাদের শেষ ম্যাচ ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে।
রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার নজির স্থাপন করেছেন তিনি। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল আর্জেন্টিনার। অস্ট্রিয়াও কিছু পাল্টা আক্রমণ গড়ে তুললেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্কালোনির শিষ্যরা। অবশেষে যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মেসি।
এভাবেই ব্যক্তিগত রেকর্ড, জোড়া গোল এবং দলের জয় সব মিলিয়ে স্মরণীয় এক রাত উপহার দিলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।