
চট্টগ্রামের খাবারের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানি। ঐতিহ্যবাহী এই খাবারের স্বাদ নিতে চট্টগ্রামের মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। ভোজন রসিকদের সেই চাহিদাকে সামনে রেখে নগরীর কল্পলোক আবাসিকের ১ নং রোডে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে ‘চট্টলা ওরশ বিরিয়ানি এন্ড মেজবানী’।
তিন বন্ধু আবু তাহের রেজভী, আবছার উদ্দিন তুষার ও ফয়সাল খান মিলে চালু করেছেন এই খাবারের প্রতিষ্ঠান। শখের বশে শুরু করা এই উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মানুষের কাছে ঐতিহ্যবাহী ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানির সঠিক স্বাদ পৌঁছে দিতে চান উদ্যোক্তারা।
‘চট্টলা ওরশ বিরিয়ানি’তে ভোজন রসিকদের জন্য থাকছে ঐতিহ্যবাহী ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানি। পাশাপাশি বিশেষ আয়োজন হিসেবে রয়েছে মোজবানী প্যাকেজ, মোরগ পোলাও, স্পেশাল নলা ও মাটন তেহেরী। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার উপভোগের জন্য মহিলাদের রয়েছে আলাদা বসার সু-ব্যবস্থা।
প্রসিদ্ধ বাবুর্চির হাতে রান্না করা ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানি মাংসের সুগন্ধে ইতোমধ্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন ভোজন রসিকরা। রান্নায় ব্যবহার করা হচ্ছে উন্নতমানের মসলা ও সেরা মানের ছানার ঘি। উদ্যোক্তাদের দাবি, খাবারের স্বাদ ও মান ধরে রাখতে কোনো কৃত্রিম উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে না।
চট্টলা ওরশ বিরিয়ানির স্বত্বাধিকারী আবু তাহের রেজভী বলেন, “আমরা মূলত শখের বসেই এই ব্যবসায় এসেছি। ওরশ বিরিয়ানির প্রধান বিষয় হচ্ছে ঘি ও মসলা। তাই আমরা সেরা মানের ছানার ঘি এবং উন্নতমানের মসলা ব্যবহার করছি। খাবারে কৃত্রিম কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না। আমরা সবসময় খাবারের মান ধরে রাখার চেষ্টা করব। লাভ কম হলেও খাবারের মানের সঙ্গে কোনো আপস করব না। ভোজন রসিকরা আমাদের দোকানের বিরিয়ানি একবার খেয়ে দেখুন, তারপর নিজেরাই বিচার করবেন।”
অন্য স্বত্বাধিকারী আবছার উদ্দিন তুষার বলেন, “চট্টগ্রামের মানুষের খাবারের প্রতি আলাদা একটি আবেগ রয়েছে। বিশেষ করে ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানির স্বাদ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। সেই ঐতিহ্যবাহী স্বাদকে সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা খাবারের মান ও স্বাদের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভোজন রসিকরা একবার আমাদের ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানির স্বাদ গ্রহণ করলে আশা করি তারা আমাদের খাবারের স্বাতন্ত্র্য বুঝতে পারবেন।”
স্বত্বাধিকারী ফয়সাল খান বলেন, “চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে ওরশ বিরিয়ানি ও মেজবানির আলাদা একটি পরিচিতি রয়েছে। আমরা চাই, মানুষ যেন একই জায়গায় এসে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আসল স্বাদ উপভোগ করতে পারেন। তাই খাবারের স্বাদ, মান ও পরিবেশ—তিনটি বিষয়কেই আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। ভোজন রসিকদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেলে চট্টলা ওরশ বিরিয়ানিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”
উদ্যোক্তারা জানান, তাদের লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের দোকান পরিচালনা করা নয়; বরং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। একই সঙ্গে ভোজন রসিকদের জন্য মানসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের একটি নির্ভরযোগ্য ঠিকানা তৈরি করতে চান তারা।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ওরশ বিরিয়ানি, মেজবানি ও নানা স্বাদের খাবার নিয়ে ‘চট্টলা ওরশ বিরিয়ানি’ ইতোমধ্যে নগরীর ভোজন রসিকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। খাবারের মান, স্বাদ ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারলে কল্পলোক আবাসিক এলাকার এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের খাবারপ্রেমীদের কাছে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা উদ্যোক্তাদের।